May 30, 2026, 8:13 am

শিরোনাম :
হজে হুইলচেয়ার ব্যবহারে যা জানা জরুরি

হজে হুইলচেয়ার ব্যবহারে যা জানা জরুরি

শারীরিক ও মানসিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের ওপর হজ ফরজ নয়। তবে আল্লাহর ঘরের প্রতি মনের টান রয়েছে সবারই। আল্লাহর ঘর জিয়ারতের আকুল আকাঙ্ক্ষা প্রত্যেক মুসলমানের হৃদয়েই থাকে। এক সময় হজের পথ ছিল অত্যন্ত দুর্গম ও কষ্টসাধ্য। বর্তমানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কল্যাণে অনেকটাই সহজ হয়ে এসেছে সেই কষ্টসাধ্য পথ। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্যও এখন অনেক সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে সৌদি আরব ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ।

হজে যাওয়ার ক্ষেত্রে বর্তমানে এমন অনেক ট্রাভেল এজেন্সি রয়েছে যারা বিশেষভাবে শারীরিক অক্ষম বা হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী হাজিদের সেবা প্রদান করে। ব্রিটিশ অলাভজনক সংস্থা ডিএইচএম গত ২০ বছর ধরে এই কাজ করে আসছে। যাদের সার্বক্ষণিক সাহায্য প্রয়োজন, তাদের জন্য এ ধরনের বিশেষজ্ঞ এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়া সবচেয়ে ভালো। কারণ তারা হাজিদের জন্য মিনায় বিশেষ টয়লেট, অভিজ্ঞ ভলান্টিয়ার এবং যাতায়াতের জন্য বিশেষ বাসের ব্যবস্থা করে।

হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী হাজিদের জন্য জেদ্দার চেয়ে সরাসরি মদিনা বিমানবন্দর দিয়ে সৌদি আরবে প্রবেশ করা বেশি সহজ। সেখানে ভিড় যেমন কম থাকে, তেমনি ইমিগ্রেশনের কাজও দ্রুত শেষ হয়। কয়েক দিন মদিনায় অবস্থান করে মসজিদে নববী, কুবা মসজিদ ও উহুদ পাহাড়সহ দর্শনীয় স্থানগুলো সহজে ঘুরে দেখা যায়।

মদিনা থেকে মক্কায় যাওয়ার পথে সাধারণত মিকাত স্টেশন থেকে ইহরাম বাঁধতে হয়। তবে শারীরিক প্রতিকূলতা থাকলে হোটেল থেকেই গোসল সেরে ইহরাম বেঁধে নেওয়া সুবিধাজনক। এরপর হুইলচেয়ার বহনে সক্ষম বিশেষ কোচ বা বাসে করে প্রায় ৪২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মক্কায় যাওয়া যায়। মক্কায় হারাম শরিফের খুব কাছের হোটেলগুলোতে অনেক সময় ভিড় ও যানজট বেশি থাকে, তাই অনেকে আজিজিয়া এলাকায় থাকাকেই বেশি পছন্দ করেন।

কাবা চত্বরে তাওয়াফ এবং সাফা-মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সাঈ করার জন্য হারাম শরিফ কমপ্লেক্সের ভেতরেই হুইলচেয়ার ও সাহায্যকারী পাওয়া যায়। এছাড়া বর্তমান সময়ে হাজিদের জন্য ইলেকট্রিক স্কুটার ভাড়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। যারা নিজেদের ফোল্ডিং হুইলচেয়ার সঙ্গে আনেন, তাদের সেটি সবসময় সাবধানে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় ৭ জিলহজ থেকে। মিনা ও আরাফায় সাধারণ টয়লেটগুলো হুইলচেয়ারের উপযোগী নাও হতে পারে, তাই বিশেষায়িত এজেন্সির মাধ্যমে গেলে তারা মিনা ও আরাফায় উপযোগী টয়লেট এবং তাঁবুর ব্যবস্থা করে দেয়। ১০ জিলহজ জামারাতে শয়তানকে পাথর মারার সময় ভিড় বেশি থাকায় শারীরিক অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য অন্য কেউ প্রক্সি হিসেবে পাথর মেরে দিতে পারেন

শারীরিক সীমাবদ্ধতা নিয়ে হজ করার বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনেই উদাহরণ রয়েছে। সহিহ বুখারি অনুযায়ী, বিদায় হজের সময় মহানবী (সা.) উটের পিঠে চড়ে তাওয়াফ করেছিলেন এবং নিজের লাঠি দিয়ে হাজরে আসওয়াদ বা কালো পাথর ইশারা করেছিলেন।

শারীরিক বাধা থাকলেও সঠিক পরিকল্পনা ও সহায়তার মাধ্যমে একজন মুমিন বান্দা তার আজীবনের স্বপ্ন পূরণ করে আল্লাহর ঘরে হাজিরা দিতে পারেন। হজের শেষে যখন একজন হাজি পবিত্র কাবা প্রাঙ্গণে বিদায়ী তাওয়াফ শেষ করেন, তখন সেই প্রশান্তি ও প্রাপ্তি সব কষ্টকে ছাপিয়ে যায়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2026 Desh-bangla.Com
Design & Developed BY PJM1337